মন খারাপ হয় না, এমন মানুষ খুজে পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা অনেক ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয় যা আমাদের ভিতরে বেদনার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনজনের মৃত্যু, প্রিয়জনের সঙ্গে দূরত্ব, কিংবা ভুল বোঝাবুঝি, নানা কারণেই আমাদের মন ভেঙে যায়, আমরা কষ্ট পাই। কিন্তু সব মন খারাপই কি ডিপ্রেশন?

U.S. Centers for Disease Control & Prevention (CDC) এর প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে মন খারাপ একটি খুবই সাধারণ ব্যাপার যার লক্ষনগুলো- কান্না করা, দুঃখের গান শোনা, কিংবা একাকিত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে। সাধারণ মন খারাপ সাধারণত কোন নির্দিষ্ট কারণে হয় যা কিছু সময় পর আবার কেটে যায়। প্রাত্যহিক কাযকর্মে এটি তেমন গভীর প্রভাব ফেলে না।

ডিপ্রেশনের লক্ষনগুলো অনেকটা সাধারণ মন খারাপের মতো হলেও এর তীব্রতা মন খারাপের তুলনায় অনেক বেশি। ডিপ্রেশনের লক্ষনগুলো কমপক্ষে ১৪ দিন স্থায়ী হতে হবে। এর আরো কিছু লক্ষন হলো-

  • আগের মতো কোনো কিছু ভালো না লাগা
  • ঘুম কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম
  • খাবারের ইচ্ছা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়া
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব, অপরাধবোধ
  • আত্মহত্যার চিন্তা

মনে রাখা প্রয়োজন যে, সব ডিপ্রেশনের মধ্যেই মন খারাপ থাকে, কিন্তু সব মন খারাপই ডিপ্রেশন নয়।

ডিপ্রেশন ব্যবস্থাপনায় প্রথম ধাপ হলো একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। চিকিৎসায় সাধারণত ওষুধ (অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) এবং সাইকোথেরাপি (যেমন CBT বা কাউন্সেলিং) ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত থেরাপি ও সঠিক ওষুধ গ্রহণে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, হালকা ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের সহানুভূতিশীল ভূমিকা রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডিপ্রেশন চিকিৎসাযোগ্য, সময়মতো সহায়তা নিলে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

একটি ভ্রান্ত ধারণাঃ শিশুদের ডিপ্রেশন হয় না!

বাস্তবে, শিশুরাও ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে, তবে তাদের মধ্যে এর প্রকাশভঙ্গি প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে ভিন্ন হতে পারে। শিশুদের ডিপ্রেশনের লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে — অস্বাভাবিক রাগ, খিটখিটে মেজাজ, স্কুলে আগ্রহহীনতা, ঘন ঘন কান্না, একাকীত্ব, ঘুম ও খাওয়ার পরিবর্তন, বা আচরণগত সমস্যা। অনেক সময় তারা সরাসরি মন খারাপ বলে প্রকাশ না করে শরীরের ব্যথা বা অসুস্থতার কথা বলে (Little et al., 2007)।

প্রতিটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও আবেগগত চাহিদা রয়েছে। অবহেলা, পারিবারিক সমস্যা, স্কুলে বুলিং, বা ট্রমা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই শিশুর আচরণে যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তবে এটিকে “জেদ” বা “অবাধ্যতা” না ভেবে পেশাদার সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

ডিপ্রেশন বয়সভেদে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেলেও, এটি যে কোনো বয়সেই হতে পারে — এমনকি শিশুদের মধ্যেও। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে শিশুকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

 

References:

Little, C. A., Williams, S. E., Puzanovova, M., Rudzinski, E. R., & Walker, L. S. (2007). Multiple somatic symptoms linked to positive screen for depression in pediatric patients with chronic abdominal pain. Journal of Pediatric Gastroenterology and Nutrition, 44(1), 58–62. https://doi.org/10.1097/01.mpg.0000243423.93968.7c

https://www.cdc.gov/howrightnow/emotion/sadness/index.html